আগুনে পুড়ে গেলে যা করবেন

আগুনে পুড়ে গেলে যা করবেন এবং যা করবেন না

বিপদ আর বলে কয়ে আসে না। হঠাৎ করেই আসতে পারে বিপদ। আর সেই বিপদ যদি হয় আগুনে পুড়া। পুড়ে যায়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আবার পুড়ে গেলেই পেস্ট, ডিমের সাদা অংশ, মাখন ইত্যাদি লাগাতে লোকের অভাব পড়ে না। এগুলো কিন্তু খুবই ক্ষতিকর। তাহলে? পুড়ে গেলে কী করা উচিত আসুন জেনে নেই।

কী ধরণের পোড়া
যে কোনো পোড়াই হোক না কেন প্রথমে দেখতে হবে পোড়া কোন ধরনের। পোড়াকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ফার্স্ট ডিগ্রি, সেকেন্ড ডিগ্রি ও থার্ড ডিগ্রি বার্ন। সুপারফিসিয়াল বার্ন বা ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন ত্বকের একেবারেই ওপরের অংশে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কোনো ফোসকা পড়ে না। ত্বক লালচে আকার ধারণ করে। কিন্তু এটি বেশ ব্যথাযুক্ত থাকে। ৫-১০ দিনের মধ্যেই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন ত্বকের আরও একটু ভেতর পর্যন্ত যায়। এ ধরনের পোড়ায় ফোসকা পড়ে। এ ধরনের পোড়ায় ব্যথা থাকে বেশ। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। থার্ড ডিগ্রি বার্ন হলো সবচেয়ে মারাত্মক। এতে দেহের ভেতরের অংশও আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের পোড়ায় কিন্তু ব্যথা থাকে না। তার মানে কিন্তু ভালো নয়। দেহের স্নায়ু পুড়ে যায় বলেই ব্যথা থাকে না।
কতটা পুড়লো

পুড়ে গেলে প্রথমে দেখতে হবে কী পরিমাণ জায়গা পুড়ে গেছে। যদি পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হয় তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।

কীসে পুড়লো
কোনো রাসায়নিক পদার্থ বা গরম তেল দিয়ে পুড়লে নিশ্চিত হতে হবে, সেটি শরীরে আর লেগে নেই। গায়ের কাপড় ও কোনো অলঙ্কারে যদি তা লেগে থাকে তবে অতি দ্রুত সরাতে হবে।

বরফ লাগাবেন না
স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলের ধারায় পোড়া অংশ ১৫-২০ মিনিট ধরে রাখুন। এতে জ্বলুনি ও ব্যথা অনেকটা প্রশমিত হবে। তা যদি সম্ভব না হয় তবে পোড়া অংশ শীতল জল দিয়ে ঢেকে দিন। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে লাগবে না। পোড়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে পোড়া অংশে বরফ লাগালে শরীরের ওই অংশ শুকিয়ে যেতে পারে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে বরফ লাগাবেন না।

আরও সাবধানতা
অনেকে পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ক্রিম, ডিমের সাদা অংশ, পেস্ট, গোবর লাগান। এগুলো কিন্তু মারাত্মক হতে পারে। ক্রিম, পেস্ট, ডিমের সাদা অংশ তাপ আরও ধরে রাখে। ফলে ত্বক আরও বেশি পরিমাণে পুড়তে থাকে। গোবরে খারাপ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো ইনফেকশন করতে পারে। তাই পুড়লে এগুলো লাগানো থেকে বিরত থাকুন।

জরুরী কয়েকটি বিষয়
পুড়ে যাওয়া অংশে অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগাতে হবে। প্রয়োজন বোধে সুপ্রাটুলি নিয়ে ড্রেসিং করতে হবে। পরে এর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগাতে হবে। ফলে পুড়ে যাওয়া ত্বকে ইনফেকশন হবে না। এটি একসঙ্গে ব্যান্ডেজের কাজও করবে। যদি পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যথা কমার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। এতে না কমলে ব্যথানাশক এনএসএআইডি সেবন করতে পারেন।