আপনি জানেন কি ? বিনোদ খান্নার জন্ম পাকিস্তানের পেশোয়ারে ৷

সর্বশেষ যে স্থিরচিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, তাতে চমকে গিয়েছিলেন ভক্তকূল৷ আর তাঁর ভক্ত নন যারা, তাদেরও মন ভারাক্রান্ত হয়েছিল৷ এই সেই হি ম্যান ইমেজের বিনোদ খান্না! হিন্দি সিনেমা প্রেমীরা বুঝেছিলেন আর বেশিদিন নয়৷ ততদিনে ক্যান্সার তাঁকে গ্রাস করে নিয়েছে৷ শেষ হল লেডি কিলার ইমেজের মার কাটারি নায়কের জীবন পর্ব৷

প্রয়াত বলিউডের সেই রোমান্স ও অ্যাকশনের জবরদস্ত হিরো, জন্ম হয়েছিল সেই পেশোয়ারে৷ যেখানকার সন্তান পৃথ্বীরাজ কাপুর, রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের মতো কিংবদন্তী অভিনেতা৷ ১৯৪৬ সালে জন্মের এক বছর পরেই দেশভাগ হয়৷ বিনোদ খান্নার পরিবার পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসে৷’৭০ দশকের কথা৷

ফিলমের পর্দায় তাঁকে দেখে গভীর রাতে কোনও যুবতী হয়তো মনের ভুলে পাড়ার কোনও উঠতি গুণ্ডার দিকে অবহেলায় তাকাত৷ ধন্য হয়ে যেত সেই রোমিও৷ অজান্তে সেই রোমিও কণ্ঠে গুনগুন- কোই হোতা জিসকো আপনা..(কেউ তো আছে যে আমার)৷ ১৯৭০-৮০ দশকের সেই নায়ক পরপারে গেলেন জীবনের সত্তরতম বছরেই৷ শোকাতুর বলিউড৷

চির কিশোরের চিরকালীন সেই গান মারকুটে পাড়ার যুবক বিনোদ খান্নার সঙ্গে একাকার৷ ছিপছিপে লম্বা, বড় জুলফি কথার থেকে হাত চালাতেই বেশি ওস্তাদ এক যুবক৷ সৌম্যকান্তি চেহারার সেই বিনোদ খান্নার ঝুলিতে শতাধিক হিন্দি ছবি রয়েছে৷

শুরুটা ১৯৬৮ সাল থেকে৷ তারপর একের পর এক ছবিতে কখনও সফল কখনও অসফল হয়েছেন৷ তবে ইমেজটা ছিল লেডি কিলার৷ তাতেই বাজিমাৎ করেছিলেন৷ সত্তর দশকেই একের পর এক ফিলম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে তাঁর নাম মনোনীত হয়৷ ১৯৭৫ সালে হাত কি সাফাই ছবির জন্য পেয়েছিলেন সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান৷

তাঁকে জনপ্রিয় করেছিল ‘কুরবানি’৷ ছবির গল্প, গান অ্যাকশন সবমিলে ’৮০-র দশকে দর্শকদের মুখে মুখে বিনোদ খান্না৷ মোট ১৪১টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি৷

পরপর হিট ছবি- জুর্ম, মুকাদ্দর কা বাদশা, পুলিশ অউর মুজরিম, ইনসানিয়ৎ কে দেবতা সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে দেখা যায়৷ হাল আমলে জনপ্রিয় ছবি দাবাং ও দিলওয়ালে-তে অভিনয় করেছিলেন৷

১৯৯৭ সালে রাজনীতিতে নেমে পড়েন৷ বিজেপিতে যোগ দিয়েই সাংসদ৷ পাঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ পরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কুর্সিতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে৷ গুরদাসপুর আসন থেকেই সর্বশেষ ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি৷

দু’বার বিয়ে করেছিলেন৷ প্রথম পক্ষের সন্তান রাহুল ও অক্ষয় খান্না অভিনেতা৷ কিন্তু বাবার মতো ম্যাচো ইমেজ নেই৷ দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান সাক্ষী ও শ্রদ্ধা৷তিনি নেই৷ তবে রগচটা-মারকাটারি ইমেজটা রয়ে গিয়েছে৷ যে সময় গলি মহল্লা ছুরি-বোমার লড়াইয়ে উত্তপ্ত থাকত৷ বাংলার সেই উত্তাল ‘সত্তর দশক’ নিয়ে পরিচালক তপন সিনহার ছবি আপনজন৷ সেই ছবির অনুকরণে হিন্দিতে হয় ‘মেরে আপনে’৷ পরিচালক ছিলেন গুলজার৷ মেরে আপনের সুপারহিট গান ‘কোই হোতা জিসকো আপনা…’সুবাদে বাংলার পাড়ার উঠতি রোমিওদের কাছেও ‘আপনজন’ হয়ে গিয়েছিলেন বিনোদ খান্না৷