সনু নিগম মিথ্যা বলেছেন। আসলে তার বাড়ি থেকে আজান শোনা যায় না।

‘সনু নিগম মিথ্যা বলেছেন’ আসলে তার বাড়ি থেকে আজান শোনা যায় না।

আজান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেঁসে গেছেন ভারতীয় সোনু নিগাম। মুম্বাইয়ে তাঁর বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নিয়ে আজানের ধ্বনি শুনতে পাননি কোনো সাংবাদিক। স্থানীয়রাও বলেছেন, সনু নিগম মিথ্যা বলেছেন। আসলে তার বাড়ি থেকে আজান শোনা যায় না। খবর বিবিসি হিন্দির।

গতকাল বুধবার বিবিসিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক আজানের আগে অর্থাৎ ভারতের স্থানীয় সময় ভোর ৫টার আগে সোনু নিগামের বাড়ির সামনে সমবেত হন। আজানের শব্দ সত্যিই শোনা যায় কিনা সরেজমিনে যাচাই করে দেখার জন্য সাংবাদিকরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ব্যস্ত মুম্বাইয়ের রাস্তা সে সময় প্রায় জনমানবহীন ছিল। আন্ধেরির ভেসোভা এলাকায় অবস্থিত সনু নিগামের দোতলা বাড়ির আলো তখনো নেভানো ছিল। বাড়ির বাইরে মোতায়েন ছিল পুলিশের গাড়ি।

আজান শোনার জন্য সাংবাদিকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সোনুর বাড়ির কাছ থেকে আজানের কোনো ধ্বনি সাংবাদিকরা শুনতে পাননি। রাস্তায় মাঝে মাঝে গাড়ি চলাচলের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই কার্যত শুনতে পাননি তারা।

খোঁজ নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, সোনুর বাড়ি থেকে অনেক দূরে কয়েকটি মসজিদ রয়েছে। কিন্তু ওইসব মসজিদের আজানের ধ্বনি সোনুর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায় না। এরপর সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে এর সত্যতার প্রমাণ পান। সাংবাদিকরা আজানের কোনো শব্দ শুনতে পাননি।

সোনুর প্রতিবেশী লতা সানদেবও জানান, তিনিও কখনো ওই এলাকায় আজানের ধ্বনি শুনতে পাননি। একই কথা বলেন কিরণ ওয়াসান নামের অপর এক হিন্দু নারী।

স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেছেন, এ এলাকায় সোনু এসেছেন দুই থেকে চার বছর হবে, কিন্তু এ এলাকায় তারা গত ৩০-৩৫ বছরে ধরে বসবাস করছেন। তবে এ এলাকার কাউকে তারা আজান নিয়ে কখনোই বিরূপ মন্তব্য করতে শোনেননি।

গত সোমবার টুইটে সোনু নিগাম টুইটে ফজরের আজানের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন! আমি তো মুসলিম নই। তবে আমাকে কেন সকাল বেলা আজান শুনে ঘুম থেকে উঠতে হবে? বাধ্যতামূলক ধর্ম পালন ভারতে কবে বন্ধ হবে?’

এর পরের টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমি মনে করি কোনো ধর্মালয়েই বিদ্যুৎ ও মাইক ব্যবহার করা ঠিক নয়।’
যুক্তি হিসেবে সনু উল্লেখ করেছেন, ইসলামের মহানবী মুহাম্মদ (সা.) যখন ইসলাম আনেন, তখন কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। তাহলে আমরা কেন এখন সেটিকে ব্যবহার করে মানুষকে বিরক্ত করব?

তবে সনুর এই ইসলাম বিদ্বেষী যুক্তি হালে পানি পায়নি। অনেকে কড়া সমালোচনা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম নেতা সোনুকে মাথা কামিয়ে ভারতে ঘোরানোর জন্য ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেন।

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কাউন্সিলের সহসভাপতি সাঈদ শাহ আতিফ আলী আল কাদেরী বলেন, অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত দিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তার নাই।

তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ যদি সোনু নিগামের মাথা কামিয়ে তাকে জুতোর মালা পরিয়ে সারা ভারতে ঘোরান তাহলে তাকে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেয়া হবে।

সংখ্যালঘু কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সাবির আলী বলেন, প্রত্যেক ধর্মেই সকালে ওঠার নিয়ম আছে। মুসলিমরা সকালে ওঠেন নামাজ পড়ার জন্যে, হিন্দুরা সূর্য প্রণাম করেন। সোনু নিগামের জনপ্রিয়তা পড়ে যাওয়ায় তাকে আজানের শব্দে সকালে ওঠারও পরামর্শ দেন এই মুসলিম নেতা।

এই ফতোয়ার জবাবে নিজের মাথাই কামিয়ে ফেলেন সোনু নিগাম। বুধবার নিজেই নিজের মাথা কামিয়ে ফেলেন সোনু। মাথা কামানোর আগে, বুধবার সইদ শাহ আতেফ আলি আল কাদেরির এই মন্তব্যকে উল্লেখ করে সোনু আবার একটি টুইট করে লেখেন- ‘তাহলে এগুলো সাম্প্রদায়িক গুণ্ডাগিরি নয়?’

Comments

comments