যেভাবে সাংসদ হয়েছিলেন চিত্রনায়ক দেব

যেভাবে সাংসদ হয়েছিলেন চিত্রনায়ক দেব

কীভাবে রাজনীতিতে ‘এলেন’ দেব? সম্পরতি ভারতের নারদনিউজ ডটকম’এর নতুন ভিডিওর বরাত দিয়ে এবেলা দেবের আজকের সাংসদ হয়ে ওঠার খবপর প্রকাশ করেছে।

ইকবাল: দিদি এমএলএ’দের দিল না। দিলে বার করে দিতাম।

ফিরহাদ: দিদির কী হল, মুকুলদার সঙ্গে একটা প্রবলেম হয়ে গেল দিদির। মুকুলদা কী করল যেখানে যেখানে সব নিজের নিজের… শিউলি-ফিউলি এদের দিয়ে দিয়েছে। দিদি খেপে গেল। বলল, আমি কোনও এমএলএ’কে দেব না! শিউলিকে কাটতে গিয়ে সব ঝাড় হয়ে গেল! মুকুলদা নিজের ওই চারপাশে যাদের দেখে, তাদেরই নাম লিখে দিয়েছে! দিদি বলে, আরে! এ তো মুকুলের গাড়িতে যারা ঘোরে তাদেরই এমপি করে দিতে হবে!

ইকবাল: শঙ্কু পণ্ডার নাম ছিল।

ফিরহাদ: শঙ্কু পণ্ডা, শিউলি, শান্তনু সেন।

ইকবাল: শান্তনু?

ফিরহাদ: হ্যাঁ। মুকুলদা পাগলের মতো কাজ করেছে। সে লিস্ট ছিঁড়ে ফেলে বিরাট ঝামেলা।

ইকবাল: (মুকুল) এটা ঠিক করেনি।

ফিরহাদ: এই দেব পেত না। ওখানে একটা ওয়াইজুল বলে ছেলের নাম ছিল।

ইকবাল: বাচ্চা ছেলে।

ফিরহাদ: হ্যাঁ। ওই প্রফেসর..।

ইকবাল: নতুন এসেছে। আগে পার্টিই করত না। আমার পাড়ায় থাকে।

ফিরহাদ: এবার কী হয়েছে ওখানে, এই সিটটা তোমার…। এই মেদিনীপুর, যেখানে দেব দাঁড়িয়েছে— ঘাটাল। ঘাটালে ওয়াইজুল ইসলাম। দিদির কাছে চিঠি গিয়েছে যে, ওয়াইজুল প্রফেসর না। ফল্স প্রফেসর। কোন একটা অর্গানাইজেশন থেকে চিঠি দিয়েছে। ওয়াইজুলকে চেনে না দিদি! এইবার! মুকুল পেয়েছেটা কী! পার্টিটাকে কি বিক্রি করে দিচ্ছে! লাস্ট দিন, যেদিন অ্যানাউন্স করবে। তার আগের দিন রাত্রিবেলা হঠাৎ শিবাজী পাঁজার ওখানে দেবের সঙ্গে দেখা নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে। মানে দেবকে জবরদস্তি ধরে পাশে বসিয়ে— তোমায় দাঁড়াতে হবে।

ইকবাল: দেবকে?

ফিরহাদ: জবরদস্তি! (দেব) বলছে, দিদি আমার এটা একদম পিক টাইম। আরও ১০ বছর হলে না-হয় ঠিক আছে (হেসে)।

ইকবাল: দেব বুঝেছে, বুঝেছে। চালাক আছে।

ফিরহাদ: (দেব) বলছে আমার এই সময়ে দাঁড়ালে পুরো কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে দিদি। আমার হাতে এখন প্রায় ৩০টা বই আছে। আমি টাইম দিতে পারছি না।

ইকবাল: ৩০টা!

ফিরহাদ: মানে ৩০ঠো সাইন কিয়া হ্যায়। শ্যুটিংয়ে সময় দিতে পারছি না। এই সময় আমি মরে যাব দিদি। তখন (দিদি) বলছে, তাহলে আমাকে তুমি ত্যাগ করে দাও! আমি তোমার দিদি নই। হ্যান নই, ত্যান নই! ও (দেব) বলছে, ঠিক আছে দিদি।

ইকবাল: দেব আমার…. (আওয়াজ অস্পষ্ট)

ফিরহাদ: ছেলেটা এমনি ভাল ছেলে। এখানে এসে বসে আমার কাছে কাঁদছে।

ইকবাল: কে?

ফিরহাদ: দেব! বলছে, গুরু দিদিকে একটু বোঝাও।

ইকবাল: এটা ভাল করেছে। ওটা মইদুল ইসলামও চেয়েছিল।

ফিরহাদ: হ্যাঁ, হ্যাঁ। মইদুল চেয়েছিল। মইদুলের নাম দিদি পর্যন্ত পৌঁছয়নি। কিন্তু প্রফেসর ওয়াইজুল নাকি…।

ইকবাল: ওই যে কলিন স্ট্রিটে থাকে। এখন নতুন পার্টি করছে।

ফিরহাদ: হ্যাঁ। এবার দেব ওইদিন রাতেই এখানে এসে…। আমিও ফিরে এসেছি। বলছে, গুরু, আমার ৩০টা বই সই করা আছে। আমার পিছনে এখনও প্রোডিউসার ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি বই নিচ্ছি না। আমার পাঁচ মিনিটের টাইম নেই গুরু। আমি পুরো ফেঁসে যাব! আমার লাইফটা পুরো শেষ হয়ে যাবে বস্! আমি বললাম, দেখো গুরু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলে দিয়েছে তখন কেউ বলবে না। কারও বাপের ক্ষমতা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে বলার। আমি বললে আবার উল্টে…! তখন তো তুমি হ্যাঁ বলে দিয়েছ। বলছে, (দেব) দিদি বলছে, তুমি কাল থেকে আমাকে দিদি বলবে না!

ইকবাল: আর কী আছে। এর থেকে বড় চ্যালেঞ্জ করলে…।

ফিরহাদ: আমি বললাম, তুমি দাঁড়িয়ে যাও। এটা কিছুই না। বড় বড় ফিল্ম আর্টিস্টরা, আমাদের সুনীল দত্ত পিক-টাইমে সবাই করেছে। পার্লামেন্ট এমন কিছু একটা ব্যাপার না।

ইকবাল: এমনিতেই দেখতে দেখতে চলে যাবে।

ফিরহাদ: মাসে একদিন গিয়ে রেজিস্ট্রেশন দিয়ে দেবে। দিল্লিতে তো যাবেই। ওইদিকে যাবে যখন শ্যুটিংয়ের জন্য, পার্লামেন্টের একটা ঘর পাবে। ফোকটে থাকবে। আর নিজের কেন্দ্রে দেখো…আমি গেলে একটা রাস্তা দিয়ে গেলে পাশের লোক জানবে না। কিন্তু তুমি একটা জায়গা যদি ঘুরে আসো, পুরো এলাকা চাউর হয়ে যাবে দেব এসেছে! দেব এসেছে!

ইকবাল: আর তোমার এমএলএ’রা আছে তো। এমএলএ’রা কাজ করবে।

ফিরহাদ: ওর (দেব) ওখানে বেশি এমএলএ নেই।

ইকবাল: নেই না?

ফিরহাদ: নাহ্। ওখানে তো ওর এমএলএ সুশান্ত ঘোষ! তবে পঞ্চায়েত পুরো আমাদের আছে। পঞ্চায়েতের মধ্যে দিয়ে কাজ করবে। ও সব সেটিং‌ আমি করে দেব। তুমি যাও…।

ইকবাল: আমার একটু বলার আছে। মানে আমনে-সামনে। দেব আছি আমি আছি…।

ফিরহাদ: ছেলেটা কিন্তু খুব ভাল ছেলে।

ইকবাল: ভাল ছেলে।

ফিরহাদ: খুব ভাল ছেলে। সিম্পল ছেলে। একদম ডাউন টু আর্থ। ও তোমার সঙ্গে দেখা হলে তোমাকেও পা ছুঁয়ে নমস্কার করবে।

Comments

comments