যানজট এড়াতে আসছে ‘ উড়ন্ত গাড়ী’,

যানজট এড়াতে আসছে ‘ উড়ন্ত গাড়ী’,

চট-জলদি কোথাও যাওয়া দরকার। কিন্তু যানজটের কারণে রাস্তায় আটকে আছেন। এ অবস্থায় রাস্তা দিয়ে গন্তব্য সময় মতো যাওয়া সম্ভব নয়। ওই সময় মনে হতে পারে, এমন একটি বাহন দরকার যা দিয়ে একই সঙ্গে রাস্তায় চলতে পারবে আবার আকাশেও উড়তে পারে। আপনার ওই চিন্তার সফর বাস্তবায়ন হয়েই গেছে।

চলতে ও উড়তে সক্ষম—এ দুটি মৌলিক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি করা হয়েছে এ ‘উড়ুক্কু’ যান। যানটিতে বিমানের মতোই ককপিট থাকবে। এটি রাস্তায় চলার পাশাপাশি উড়তেও পারবে। চলতে চলতে উড়ার প্রয়োজন হলেই গাড়ির পাশেই থাকা পাখা বের হয়ে যাবে। হেলিকপ্টারের মতো উড়ে চলা এই বাহনটিকে চালক যেকোনো জায়গায় নামতে পারবেন।

বিজনেস ইনসাইডারের খবরে বলা হয়েছে, অ্যারো মবিল নামে স্লোভাকিয়ার একটি কোম্পানি আজ বৃহস্পতিবার একটি উড়ন্ত গাড়ি রাস্তায় চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেছ। এখন কেনার পর ওই গাড়ি রাস্তায় চালানো যাবে। তবে কিছু শর্ত থাকছে। ওই গাড়িতে হালকা ফ্রেমে পাখা থাকবে যা ভাঁজ করা যাবে। এতে একটি হাইব্রিড ইঞ্জিন থাকবে।

অনেক দামি এই গাড়ি কিনতে অনেকে আগেই চাহিদা দিয়ে রেখেছিলেন। তারা এখন এটি ব্যবহারের জন্য সড়কে নামাবেন। তবে এ গাড়ি চালানোর জন্য চালকের পাশাপাশি পাইলটের লাইসেন্সও লাগবে। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক প্রকৌশল ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ফিলিপ মেয়বি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি বিশেষ ধরনের পণ্য হতে যাচ্ছে।’

ফিলিপ মেয়বি বলেন, বিশ্বের বেশ কয়েকটি নামীদামি কোম্পানি উড়ন্ত গাড়ির ওপর কাজ করেছে। অ্যারো মোবিলের বানানো এই উড়ন্ত গাড়িতে দুটো বসার সিট আছে। এই গাড়ি হেলিকপ্টারের মতো কাজ করবে। কিন্তু বেশির ভাগ কোম্পানিই তাৎক্ষণিকভাবে এই যান বিপণনের ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে দেখে নি। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিটি আছে…কিন্তু প্রশ্নটি হচ্ছে, বাজারজাতকরণে এর সাশ্রয়ী মূল্যে এবং এটি কার্যকর পণ্য হিসেবে তৈরি করাও একটি কাজ।’

তবে অধ্যাপক ফিলিপ মেয়বির প্রশ্ন হলো এটি আকাশে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না?

অ্যারো মবিলের তৈরি করা এ গাড়ির গতি প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) ; সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার (৯৯ মাইল) গতিতেও চালানো যাবে গাড়িটি। রাস্তায় চলার সময়ে এই গাড়িকে প্লেনে রূপান্তরিত করার জন্য সময় লাগবে প্রায় তিন মিনিটের মতো।

এর আগেও অ্যারো মবিল ২০১৪ সালে ভিয়েনায় এমন একটি গাড়ি তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু তখন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। তাই ২০১৫ সালে স্লোভাকিয়ায় এটি পরীক্ষার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে।

Comments

comments