জুয়ায় বাজি হেরে বন্ধুর হাতে নিজের স্ত্রীকে তুলে দিতে স্বামীর ঘৃন্য পরিকল্পনা!

জুয়ায় বাজি হেরে বন্ধুর হাতে নিজের স্ত্রীকে তুলে দিতে স্বামীর ঘৃন্য পরিকল্পনা!

আজ থেকে প্রায় ৮ মাস আগের ঘটনা। দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনবার ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারন করে  দীর্ঘ এক যুগের বিবাহিত সম্পর্ককে ভেঙে দিয়েছিল স্বামী। তবে এই তালাক দেবার ঘটনা নিছক কোন আকস্মিক ঘটনা নয়! এর পেছনে ছিলো স্বামীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সেকথা ঐ স্ত্রী জানতে পারে চুড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর ।

সপ্রতি এই ঘটনায় স্ত্রী জয়পুরের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জয়পুরের একটি উপশহরের  এই ঘটনায় স্ত্রীর অভিযোগ, ‘তালাক’ দেওয়ার পরেও স্বামী তাঁর সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। ৩০  বছর বয়সী ঐ গৃহবধূর মনে হয়েছিল স্বামী হয়তো ভুল বুঝতে পেরেছেন।

কিন্তু, একদিন আচমকাই স্বামী বলে বসে, ‘তালাক’ পাওয়া স্ত্রী-কে প্রাক্তন স্বামীর কাছে ফিরতে হলে ‘নিকাহ হালালা’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে উঠে  ‘নিকাহ হালালা’-র মানে জানতে চায় স্ত্রী।

এরপর স্বামী জানান,  ‘তালাক’ পাওয়া স্ত্রীকে অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে থাকতে হবে। তারপর সেই পুরুষের কাছে ‘তালাক’ পেলে তবেই একজন মহিলা আগের স্বামীর সঙ্গে ফের ঘর বাঁধতে পারে।

জয়পুরের ওই গৃহবধূর অভিযোগ, ‘নিকাহ হালালা’-র কথা বলে প্রায়ই তাঁর স্বামী অন্য এক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল।তিনি অস্বীকৃতি জানালে এজন্য বারকয়েক মারপিটের শিকারও হতে হয়। এভাবেই চলছিলো বেশ কিছুদিন।

সম্প্রতি  মহিলার শরীর খারাপ করায় স্বামী কিছু ট্যাবলেট দেয়। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়।  মহিলার অভিযোগ, ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর থেকেই তিনি অবসন্ন বোধ করছিলেন। এই অবস্থায় স্বামী তাঁকে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায়  । সেখানেও নাকি স্বামী তাঁকে জোর করে আরও কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। এরপর তাঁর আর কোনও জ্ঞান ছিল না বলে অভিযোগে জানিয়েছেন ওই নারী ।

জ্ঞান ফিরলে ওই মহিলা স্বামীর বন্ধুর পাশে, ঘরের মেঝেতে নিজেকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পান। মহিলার অভিযোগ, এই ঘটনার কথা পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে ফল ভালো হবে না বলেও নাকি হুমকি দেয় স্বামী। মহিলার দাবি, তিনি যখন পর-পুরুষের হাতে অচৈতন্য অবস্থায় ধর্ষিত হচ্ছিলেন তখন নাকি স্বামী সেই দৃশ্য ভিডিও করছিল।

পরবর্তীতে স্ত্রী জানতে পারে পুরো ঘটনাটিই ছিলো পরিকল্পিত, স্বামী জুয়ার আসরে তাঁকে বাজি রেখেছিল বন্ধুর কাছে। আর সেই জুয়ায় সে বাজি হেরে গিয়েছিল। কিন্তু, ওই মহিলা কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেসময়  ‘৩ তালাক’ দেয় স্বামী। কিন্তু, এর পরও স্বামী তাঁর সঙ্গে বসবাস করতে থাকে।

জয়পুরের এই ঘটনায় দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা ঘটনায় এতটাই ক্ষিপ্ত স্ত্রী যে, যে কোনও মূল্যে অভিযুক্ত স্বামী এবং তার বন্ধুর কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভারতীয় দৈনিক এবেলায় প্রকাশিত এক খবর সুত্রে, গোটা ঘটনায় মহিলা এতটাই ধাক্কা পেয়েছিলেন যে স্বামীর কীর্তিতে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তবু, প্রকাশ্যে সম্মানহানির ভয়ে তিনি এতদিন থানায় অভিযোগ করেননি।

কিন্তু, সম্প্রতি মুসলিম মহিলা সুরক্ষা অভিযানের সাহায্যে স্বামী এবং তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিতা গৃহবধূ। আপাতত পলাতক অভিযুক্ত স্বামী এবং তার বন্ধু।

Comments

comments