মিৎসুবিশির বিলাসবহুল গাড়ি ‘কিউএক্সে’ এখন তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে

মিৎসুবিশির বিলাসবহুল গাড়ি ‘কিউএক্সে’ এখন তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে

প্রথম চেষ্টাতেই বিশ্বখ্যাত মিৎসুবিশি ব্র্যান্ডের সর্বশেষ প্রযুক্তির পাজেরো ‘কিউএক্স’ মডেলের জিপ সংযোজনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পিআইএল)। মিৎসুবিশির কোয়ালিটি অডিট টিম গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত পিআইএল কারখানায় প্রগতির প্রকৌশলীদের পরীক্ষামূলক সংযোজিত কিউএক্স মডেলের জিপ গাড়ির কায়িক পরীক্ষা শেষে এ অনুমোদন দেন। ফলে ৮০ লাখ টাকা দামের সর্বাধুনিক জিপ গাড়িটি সংযোজনে আর কোনো বাধা থাকল না।

দেশে এত আধুনিক এবং দামি গাড়ির সংযোজন এটাই প্রথম। অথচ একই প্রকল্পের আওতায় এই মডেলের গাড়িটি ফিলিপাইনের গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান দুবার এবং ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম প্রচেষ্টায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। মিৎসুবিশির নিজস্ব কারখানার বাইরে কিউএক্স মডেলটি বিশ্বব্যাপী প্রগতির কারখানায় প্রথম সংযোজনের অনুমতি পেয়েছে বলে মিৎসুবিশির কর্মকর্তারা জানান।

জানতে চাইলে পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবুল খায়ের সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিৎসুবিশির বিশেষজ্ঞদের সামনে কায়িক পরীক্ষায় আমাদের জন্য গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল মাইনাস ৩৫ (-৩৫) পয়েন্ট। সেখানে আমাদের প্রকৌশলীরা অর্জন করেছে মাইনাস ৩৩ দশমিক ৫ (-৩৩.৫) পয়েন্ট। আমাদের এই অর্জনে মিৎসুবিশির কর্মকর্তারাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একই প্রকল্প ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছে বলে তাঁরা আমাদের জানিয়েছেন। ’ এর আগে প্রগতি স্পোর্ট মডেলটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে তিন দফা সময় লেগেছিল বলে তিনি জানান।

এই অনুমোদনের ফলে এ মাস থেকেই কিউএক্স মডেলটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হবে বলে প্রগতি সূত্র জানিয়েছে। পিআইএল কর্মকর্তারা জানান, মিৎসুবিশি প্রকৌশলীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবর থেকে তিন দফায় ১৮টি জিপ পরীক্ষামূলকভাবে সংযোজন করা হয়। এরপর সরাসরি প্রগতির প্রকৌশলীদের হাতে আরো তিনটি গাড়ি সংযোজন করা হয়।

সম্প্রতি এ গাড়িগুলো থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে তিনটি গাড়ি বেছে নেন মিৎসুবিশির কোয়ালিটি অডিট টিমের সদস্যরা। এই গাড়িগুলোর বিভিন্ন কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে গত বৃহস্পতিবার এ ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এই মুহূর্তে প্রগতির কারখানায় পাজেরো কিউএক্স মডেলের ৩২টি গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া আরো ৫০ ইউনিট বিযুক্ত (সিকেডি) গাড়ির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। বর্তমানে পাজেরো সিআর-৪৫ মডেলের জিপ সরকারি পর্যায়ে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করছে প্রগতি। তবে আরো আধুনিক নতুন কিউএক্স মডেলের গাড়িটির বিক্রয় মূল্য ৮০ লাখ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে প্রগতি।

এ প্রসঙ্গে পিআইএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের সরদার বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প এবং বেসরকারি পর্যায়ে এই জিপটি বাজারজাত করার ইচ্ছা আছে। প্রগতি নিজেই গাড়িটি বাজারজাত করবে। ’

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের জনপ্রিয় পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ মডেলটি গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই বিশ্বব্যাপী উৎপাদন বন্ধ করে দেয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশন (এমএমসি)।

এরই বিকল্প হিসেবে পাজেরোর নতুন সংস্করণ ‘কিউএক্স’ মডেলটি বাজারে এনেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি। এ গাড়ি সংযোজনে প্রগতিকে প্রায় ছয় কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। আপাতত নতুন এই মডেলের জন্য এমএমসির সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে প্রগতি। পরে এই চুক্তি আরো দুই বছরের জন্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে মিৎসুবিশির বহরে সিআর-৪৫ মডেলটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগেই এই মডেলের প্রায় ৫০০টি বিযুক্ত (সিকেডি) গাড়ির জন্য এলসি খুলে রেখেছিল প্রগতি কর্তৃপক্ষ। যাতে নতুন গাড়ি সংযোজনের মধ্যবর্তী সময়ে গাড়ি সংযোজনে কোনো সংকট তৈরি না হয়। বর্তমানে এই মডেলের ২৬০ ইউনিট বিযুক্ত অবস্থায় প্রগতির কারখানায় মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রগতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

পিআইএল সূত্র জানায়, পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ মডেলটির জন্য ২০১০ সালে মিৎসুবিশি মোটরসের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয় প্রগতির। পরে এই চুক্তি আরো দুই বছর বাড়ানো হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রগতি ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত এই মডেলের গাড়িটি বাজারজাত করতে পারবে। এর পরেই নতুন মডেলের গাড়ি বিক্রি করতে হবে প্রগতিকে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ২৫০০ সিসির অত্যাধুনিক ‘কিউএক্স’ মডেলের পাজেরো স্পোর্ট গাড়ি সংযোজন করছে প্রগতি।

Source: BD Morning