হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

বর্তমানে মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকে তাকালে ছোট খাটো একটা মরুভূমি মনে হতে পারে। মাঠ খুড়ায় যেন মহা  ব্যস্ত মাটি কাটা গাড়ি ও শ্রমিকেরা। সবাই মাঠ থেকে মাটি সরানোর কাজ করছে । আর সেই মাটি কেটে মাঠের পাশে রাখা হয়েছে দেখে মনে হবে ছোট পাহাড়।

হঠাৎ মিরপুরের মাঠের  এই দৃশ্য দেখলে চমকে উঠে পারেন ! ভাবতে পারেন কি হচ্ছে এই সব? কি করা হবে এখানে? দেশের হোম ক্রিকেট মাঠের এমন হাল হলে ক্রিকেটের কি হবে? কোথায় মাশরাফি-মুশফিকরা খেলা করবে? তবে এতো হতাশ হয়ার কিছুই নেই। আসলে দশ বছর পর আবারো মাঠের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।এর আগে বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক এসে মাঠ দেখেছেন। এরপর তার দেয়া প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ।

হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিস কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, মাঠের উপরিভাগের ছয় ইঞ্চি উঠিয়ে ফেলা হয়েছে ।কেননা সারফেসে ধুলো জমায় ভেতরে পানি যেতে পারছে না।তাছাড়া মাটির নিচের পাইপগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।কোথাও কোথাও আবার ফেঁটে গেছে, যা মাঠে পানি জমাতে সাহায্য করছে।তাই মাঠের যেসব জায়গায় পানি জমতো সেগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিলো এখন খুঁড়ে  সেগুলো ঠিক করে হচ্ছে ।’

হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

সারফেসে ৬ ইঞ্চি সিলেট থেকে আনা বালু বসানো হবে। ৬ ইঞ্চি সারফেসের পুরোটাই বালু। মাটি থাকবে না, থাকলে সাকিং হবে না। ফলে ড্রেনেজে অসুবিধার সৃষ্টি করবে। আগেও ছয় ইঞ্চি সারফেসের পুরোটাই বালু ছিল। মাঠে যেন পানি জমতে না পারে সেজন্যই বালু দেয়া হয়।’

তাছাড়া মাঠে যে সবুজ মাঠটি আমরা দেখি তাতে মনে হয় উপরিভাগটা সম্পূর্ণই মাটির। আসলে ‘উপরিভাগের ছয় ইঞ্চির পুরোটাই বালু। ছয় ইঞ্চি বালুর পর যে স্তরটি শুরু হয়েছে সেখান থেকে ৮-৯ ইঞ্চি পর্যন্ত পাথরের স্তর। আর এই পাথরের সাথে আছে সিলেট থেকে আনা বালুর মিশ্রন।

হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

পাথরের ফাঁকে ফাঁকে আছে জিওটেক্স, তার সাথে আছে পারপোরেটেড পাইপ। জিওটেক্স হলো ছাঁকন যন্ত্র। উপরিভাগের ছয় ইঞ্চি থেকে এক ফিট নিচে গেলেই জিওটেক্স পাওয়া যাবে। পুরো মাঠের নিচে আট ইঞ্চি, ছয় ইঞ্চি লম্বা পাইপ আছে। এগুলো মাটির নিচের নির্দিষ্ট দূরত্বে। পাইপ লাইনের আবার সাব পাইপ লাইন আছে।পাইপ দিয়ে যাওয়া পানি গিয়ে পড়ে মাঠের চারপাশ জুড়ে থাকা ড্রেনে।

হঠাৎ মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কি হচ্ছে এই সব?

চলতি বছরের জুলাইয়ে সংস্কারের কাজ অর্ধেক শেষ হয়ে যাবে। আর পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আগস্ট মাস। খোঁড়া খুঁড়ি শেষ হয়ে যাবে। আগামী সপ্তাহেই উপরিভাগের ছয় ইঞ্চি সারফেস উঠানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর শুরু হবে নতুন সারফেস বসানোর কাজ। তার উপর লাগিয়ে দেয়া হবে বারমুডা ঘাস।ড্রেনেজ সিস্টেম আগের চেয়ে অবশ্যই ভালো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলেও মাঠ শুকাতে লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট।

সূত্র: bdmorning