৪০ মিনিটের অস্ত্রোপচারেই কুমারিত্ব!

৪০ মিনিটের অস্ত্রোপচারেই কুমারিত্ব!

৪০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সতীচ্ছেদ বা হাইমেন প্রতিস্থাপন করে ফের  কুমারিত্ব অর্জন করতে পারছেন নারীরা।

এ কারণে ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণীদের মধ্যে সতীচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের জন্য ‘হাইমেনোপ্লাস্টি’ নামের অস্ত্রোপচার করার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।

ভারতের হায়াদারাবাদের একজন বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন জানান, কুমারিত্ব প্রতিস্থাপন অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এর প্রতি নারীদের আগ্রহ বেড়েছে।

কুমারিত্ব অর্জনের জন্য আগে বছরে ২-৩টি অস্ত্রোপচার করা হলেও এখন ৫০টি অস্ত্রোপচার হচ্ছে বলেও জানান তিনি।খবর এবিপি আনন্দের।

ওই চিকিৎসক জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলারা নিজেই উদ্যোগী হয়ে এই অস্ত্রোপচারের দাবি নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, অনেক নারী আজও মনে করেন সুখী দাম্পত্য জীবনের শুরু করতে সতীচ্ছেদ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, স্বামী যতোই আধুনিক হন না কেন, স্ত্রীদের কুমারী হওয়াটাই কাম্য।

এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, দুই মাস আগে হায়দরাবাদের বাঞ্জারা হিলস নিবাসী এক নারী নিজের মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক প্লাস্টিক সার্জনের কাছে। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলায় তার হাইমেন পুনঃস্থাপন করতে চাইছিলেন এই মা।

তিনি বলেন, আমি চাই না, মেয়ের স্বামী মনে করুক যে ও কুমারী নয়! তাই বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাতে না মেয়েকে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।

চিকিৎসক বলছেন, কুমারিত্ব অর্জনের জন্য তাদের কাছে নারীদের আসার হার আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, ২০ থেকে ৩০ বছরের নারীরাই বেশি আসছেন।

কিভাবে সতীচ্ছেদ পুনঃস্থাপন হয়?

চিকিৎসকদের মতে, যোনিপথের এক-দু ইঞ্চি ভিতরে যোনি-দেওয়াল থেকে একটি মেমব্রেন বা পর্দা তৈরি করে তাকে নতুন হাইমেনের রূপ দেওয়া হয়।

প্রাকৃতিক নিয়মে, ক্ষত দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। এমনকী,কোনো দাগও থাকে না। তবে অস্ত্রোপচারের পর কয়েক সপ্তাহ কোনো শারীরিক কসরত করতে মানা করা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নারীরাই অস্ত্রোপচারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, এমন নয়।

বহুক্ষেত্রে, খেলা, দৌড়ঝাঁপ, শারীরিক কসরত বা নাচ করলেও সতীচ্ছেদ ছিঁড়ে যায়। ফলে এমন নারীরাও অস্ত্রোপচার করতে আসেন।

আবার সন্তানের জন্ম দেয়ার পরেও অনেক নারী যোনিপথ দৃঢ় করাতে ভ্যাজিনোপ্লাস্টি নামে অস্ত্রোপচার করতে আসেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

প্লাস্টিক সার্জনস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ডা. সুধাকর প্রসাদ জানান, বর্তমানে সতীচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের অস্ত্রোপচারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

ব্যাপক চাহিদার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ছাড়াই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরাও এই অস্ত্রোপচার করছেন। এমনকি কসমেটোলজি ক্লিনিকগুলোতেও এই অস্ত্রোপচার চলছে।

সুধাকরের মতে, যোনি জায়গাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সতীচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত সহজ হলেও তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়েই করানো উচিত। এক্ষেত্রে ভুলের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সূত্র –jugantor

Leave a Reply

Your email address will not be published.