আনসার ক্যাম্পে হামলার বর্ণনা দিলো আটক তিন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’

আনসার ক্যাম্পে হামলার বর্ণনা দিলো আটক তিন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প থেকে র‌্যাবের হাতে আটক তিন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনসার ক্যাম্পে হামলার কথা স্বীকার করেছে। এ সময় তারা গত বছরের ১২ মে টেকনাফের নয়াপাড়াস্থ মোচনী ক্যাম্পে দায়িত্বরত আনসার ব্যারাকে হামলার বর্ণনা দেয়। গত ৯ জানুয়ারি রাতে খাইরুল আমিন, মাস্টারর আবুল কালাম আজাদ ও হাসান আহমদ  নামের তিন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে’ গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার লে. আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‌্যাবের হাতে আটক তিন রোহিঙ্গা প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি জবানবন্দীতে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের গত ১২ মে টেকনাফের নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পে তারা হামলা করার পূর্বে বেশ কয়েকবার হামলার প্রস্তুতি নিয়েও ব্যর্থ হয়। ফলে প্রতিনিয়ত তারা আনসার ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রহরীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতো। ওই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে আনসার ক্যাম্পে হামলার উদ্দেশ্যে তারা ১৮ জন আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ের কাছে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এদের মধ্যে ১৪ জন মুখোশ পরা অবস্থায় সরাসরি হামলায় অংশ নেয় এবং অন্য ৪ জন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে নুরুল আলম ও বড় খায়রুল আমিন দা দিয়ে আনসার ক্যাম্পের বেষ্টনি কেটে আনসার ক্যাম্পে প্রবেশ করে এবং অন্যরা তাদের অনুসরণ করে। তারা আনসার ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রথমে আনসার সদস্য অজিত বড়ুয়াকে  ও পরে অন্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেন অস্ত্রাগারের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দৌঁড়ে পালাতে গেলে নুরুল আলম তাকে গুলি করে। অতঃপর তারা অস্ত্র ও গুলি লুট করে ক্যাম্প ত্যাগ করে। অস্ত্র ও গুলি নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তারা বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা অস্ত্র ও গুলি বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করে সর্বশেষ ঘুমধুম এলাকায় রাখে। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ পলাতক আসামিদের জিম্মায় রয়েছে।

এদিকে, টেকনাফে আনসার ক্যাম্পে অস্ত্র লুটের ঘটনায় এই পর্যন্ত যারা গ্রেফতার হয়েছে- রফিক ডাকাত ওরফে মামুন মিয়া (৩০), মৃত বাছা মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৫), মৃত আমির হামজার ছেলে জয়নাল ওরফে জানে আলম (৫০), মৃত ফজল আহমদের ছেলে মো. হারুন (৩০), মৃত বাছা আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (২৯), মোস্তাফিজের ছেলে খায়রুল আমীন (৩২), নেছার আহমদের ছেলে মাস্টার আবুল কালাম আজাদ (৪৬), সুলতান আহমদের ছেলে হাসান আহমদ (৩০)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা আরও জানিয়েছে, ‘২০/২৫ জনের সংঘবদ্ধ দল গত ৫/৬ বছর ধরে কক্সবাজারের টেকনাফের শ্যামলাপুর, বাহারছড়া, লেদা ও কক্সবাজারে উখিয়া, কুতুপালং এলাকায় ডাকাতি এবং অপহরণ করে আসছিল।’

সূত্র –banglatribune