মালদ্বীপকে উড়িয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

মালদ্বীপকে উড়িয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় তখন আনন্দের ঝরনাধারা। ম্যাচ শেষে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতল বাংলার মেয়েরা। এ উল্লাস স্বপ্ন ছোঁয়ার। এ আনন্দ ইতিহাস গড়ার। ইতিহাসই তো! আজ শিলিগুড়িতে মেয়েদের সাফের সেমিফাইনালে মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে এক অর্থে ইতিহাসেরই অংশ হলেন সাবিনা খাতুনরা। ৪ জানুয়ারি ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ভারত।

মেয়েদের সাফে গত তিন আসরে দুবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের সাফেও ২০০৩ সালের পর থেকেই শিরোপাখরা। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে সেই ২০০৫ সালের পর আবারও সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন সিরাত জাহান স্বপ্না। অন্য দুটি গোল সাবিনা খাতুনের। একটি গোল করেছেন নার্গিস খাতুন।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসও জ্বালানি হয়েই জ্বলে ছিল মেয়েদের মনে। তা ছাড়া সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ বলেই কিনা আশায় বুক বেঁধে খেলতে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে সাফে মালদ্বীপের সঙ্গে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই বছর আগে পাকিস্তানে হওয়া সাফে মালদ্বীপকে ৩-১ গোলে হারায় সাবিনারা। এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার সাফল্য জোগানো আত্মবিশ্বাস তো ছিলই। সব মিলিয়েই যেন আজকের এই দুর্দান্ত জয়।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল খেয়েই বসতে পারতো বাংলাদেশ। চার মিনিটে মালদ্বীপ মিডফিল্ডার মারিয়া হঠাৎই বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ধরে ফেলেন গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার। ওই একবারই যা একটু সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর সময় যতই গড়িয়েছে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার ততই বেড়েছে। ম্যাচের ১১ মিনিটে সিরাত জাহান স্বপ্নার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে স্বপ্না বল জড়ান জালে। ২২ মিনিটে সাবিনা খাতুনের পাস থেকে স্বপ্নার শটে স্কোরলাইন ২-০ হয় বাংলাদেশের।

দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশ খেলেছে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল। ৪৭ মিনিটে স্বপ্নার ক্রস থেকে সাবিনা খাতুন করেন ৩-০। ৫২ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেছেন নার্গিস খাতুন। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রংপুরের মেয়ে স্বপ্না। এটি ছিল বাংলাদেশের পঞ্চম গোল। এরপর ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ গোলটি করেন সাবিনা। বাকি সময়ে যেন আরও খোলসে ঢুকে গেছে মালদ্বীপ। দাপুটে বাংলাদেশের সামনে আজ যেন অসহায় আত্মসমর্পণই করতে হয়েছে দ্বীপ দেশের মেয়েদের।

বাংলাদেশ দল : সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা (সানজিদা), জাহানারা মৌসুমি, সিরাত জাহান স্বপ্না (আনুচিং), সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা, কৃষ্ণা (মার্জিয়া)।

সূত্র –prothom-alo